তরুণ উদ্যোক্তা মাইকেল


“ইনকাম ডায়েরি” নামের একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়েছেন ২১ বছর বয়সী তরুণ প্রোগ্রামার মাইকেল। বর্তমানে তার এই ওয়েবসাইটের সাবস্ক্রাইবার প্রায় দশ হাজার। তাকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম।

স্কুলের পড়াশোনা খুব বেশি তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। নিজের একটা ছোট্ট জগত্ নিয়ে থাকতে ভালোবাসতেন তিনি। একসময় ছেড়ে দেন পড়াশোনা। এরপর কী হবে? এ নিয়ে তার বাসায় শুরু হল ঝড়। কিন্তু তিনি আগে থেকেই মনস্থির করে ফেলেছিলেন ব্যবসা করবেন। সেই লক্ষ্যে খুলে ফেলেন একটি ওয়েব সাইট। অবশ্য তখনও জানতেন না, এই ওয়েব সাইটই তাকে নিয়ে যাবে বহুদূর। এরপর তিনি শুরু করেন ব্লগ লেখার কাজ। একসময়  তিনি তার নিজস্ব ব্লগে ডিক্লিয়ার করেছেন, তিনি নিজের অটোবায়োগ্রাফি সংযুক্ত  করবেন এবং নাম দেবেন, ‘অ্যান্ড আই থট মাই সেলফ’ কিংবা এমনই সংক্ষিপ্ত কিছু। তার স্বপ্নের মতোই সেটা পরিবর্তন হতে থাকবে, সময়ের সাথে সাথে। সাধারণত সবাই যা করে সেসব নিয়ে আলাপ করে তাদের ব্লগে কিন্তু তিনি ব্যতিক্রম। তিনি মনে করেন, তিনি কী করতে যাচ্ছেন অথবা ভবিষ্যতে তার অবস্থান কোথায় হবে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের সম্পর্কে আরো কথা সেখানে লেখা আছে। আছে তার স্বপ্নের কথা। তিনি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন। তবে সবসময়ই একজন লিডারের ভূমিকায় থাকতে চান তিনি। তিনি বলেন, ‘দ্যাটস হু আই অ্যাম’।  সত্যিই তিনি ডন, একাধারে ফটোগ্রাফি, ফিল্ম মেকিং, অভিনয়, ব্লগ লেখক, বই পড়া, টাকা আয় করা সব দিক দিয়েই তার রয়েছে প্রতিভা। আর তাই তিনি সবকিছুকে একত্রে মিলিয়ে নিজের পরিচয় দিয়েছেন, একজন ইন্টারপ্রেনার অর্থাত্ ‘উদ্যোক্তা’।  মানুষ সেসব কাজে সফলতা লাভ করেন যেগুলো কাজ করে তারা আত্মতৃপ্তি পান। তেমনই একজন আমাদের আলোচিত ব্যক্তিত্ব, ‘মাইকেল’। তিনি নিজের সৃজনশীলতা ও প্রতিভা অন্যের উপকারে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। তার চিন্তা-চেতনা দিয়ে মানুষের জীবনকে আরো স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে চান তিনি। তিনি সিনিয়র স্কুলে থাকার সময়ই বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। তবে অ্যাস্ট্রোলজিতেও তার কিছুটা আগ্রহ ছিল। তিনি মনে করেন, পড়া কখনো শেষ হয় না। আর মন দিয়ে পড়লে, পড়াশোনাকে ভালোবাসলে অনেক কিছুই শেখা যায়। জেমি তার শৈশব থেকেই ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন। প্রথমে সেটা ছিল কিছুটা আনন্দের উত্স। তার বয়স তখন ১১ বছর। তিনি ও তার বন্ধুরা মিলে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। এবং তা দেখার জন্য ছিল টিকেটের ব্যবস্থা অর্থাত্ এন্ট্রি ফি। সেইসব প্রতিযোগিতাগুলো ছিল বিনোদনধর্মী। এবং এই প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণের ব্যবস্থাও রেখেছিলেন তিনি। এক কথায় একটি ব্যবসাসফল উদ্যোগ।  এর ঠিক ৭ বছর পরের কথা, তখন হাই স্কুলে গ্র্যাজুয়েশান করছেন। এর মধ্যেই তিনি যথেষ্ট নাম কামিয়ে ফেলেছেন একজন ভারতীয় ইন্টারনেট উদ্যোক্তা হিসেবে। তিনি ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ শুরু করেন প্রফেশনালি। তার প্রথমদিকের করা একটি ওয়েব সাইটের মধ্যে রয়েছে ‘মেডিটেশন রকস ডট ইউএস’ নামের একটি সাইট। তিনি সেসময় কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করতেন। এই পরিচয়ের পাশাপাশি সুবক্তা হিসেবে তিনি জনপ্রিয়। সম্প্রতি তিনি টিনেজদের উপর একটি ইলেক্ট্রনিক ম্যাগাজিন লেখার কাজ করছেন। সেই সাথে বিজ্ঞানের ‘ইন্টারসেকশন অব স্পিরিচুয়েটি অ্যান্ড সায়েন্স’ নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তার আরো কাজের মধ্যে রয়েছে ইয়ং টিনেজদের নিয়ে সিনেমা বানাবার কাজ। সিনেমাটির নাম দিয়েছেন, ‘ফ্রেন্ডস : দ্য মুভি’। নাম শুনেই বোঝা যায়, বন্ধুদের নিয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে সিনেমাটি। মাইকেলের ব্লগ থেকে শেষ খবর পাওয়া গেছে তিনি টিনেজারদের নিয়ে একটি কনফারেন্স করতে যাচ্ছেন। এই কনফারেন্সের মূল আলোচ্য বিষয় হলো ইয়ং জেনারেশন কী করতে পারে কিংবা তারা বিশ্বকে তাদের কাজের মাধ্যমে কতটা প্রভাবিত করতে পারে। এক অর্থে বলা যায়, এই বৈঠক সকলের কাছে একটি সুযোগের দ্বার খুলে দিতে পারে যাতে তারা, ব্লগিং ছাড়াও অনেক ধরনের কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার সুযোগ পান।

 

[ইত্তেফাক। ২৬ এপ্রিল ২০১২]

0