ভারতের ওয়ারেন বাফেট রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা


‘ভারতের ওয়ারেন বাফেট’ বা ‘দ্যা বিগ বুল’ বলে পরিচিত রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা। এই নামের অন্যতম প্রধান কারন হলো  ভারতের পুঁজি বাজারে অন্যতম শীর্ষ  বিনিয়োগকারী হলেন রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা। মাত্র ৫ হাজার রুপি দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করে বর্তমানে ১৮ হাজার ৬০০ কোটি রুপির অধিক নিট সম্পত্তির মালিক তিনি। শেয়ার বাজারে ঈর্ষনীয় সাফল্য কিন্তু একদিনে আসেনি। এর পেছনে রয়েছে অনেক পরিশ্রম ও অনুসরনীয় বিনিয়োগ কৌশল।   রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে বিশ্বাসী। যেমন, ২০৩ সালে প্রায় ৩ টাকা রুপি দরে টাইটান কোম্পানি লিমিটেডের ছয় কোটি শেয়ার কেনেন রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা। এখনো তার পোর্টফোলিওতে টাইটানের ৬ কোটি ২৪ লাখ ৫১ হাজার শেয়ার রয়েছে। প্রতিটি শেয়ারের বর্তমান বাজারদর ১ হাজার রুপির বেশি। অর্থাৎ ১৬ বছর আগের ১৮ কোটি টাকার বিনিয়োগ আজ বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ২৪৫ কোটি ১০ লাখ রুপির বেশি।

রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা ১৯৮৬ সালে ৪৩ রুপি দরে কোম্পানির ৫ হাজার শেয়ার কিনে তিন মাসের মাথায় প্রতিটি ১৪৩ রুপি দরে বিক্রি করেন। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ার থেকে ১০০ রুপি হিসাবে ৫ হাজার শেয়ারে ৫ লাখ রুপি মুনাফা হয় তার। ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৮৯ সালের মধ্যে শেয়ার বিনিয়োগ থেকে রাকেশ ২০ থেকে ২৫ লাখ রুপি মুনাফা করেন।

১৯৬০ সালের ৫ জুলাই ভারতের মুম্বাইয়ে জন্ম নেন রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা। মুম্বাইয়ে এশিয়ার প্রাচীনতম কমার্স কলেজ সাইডেনহাম কলেজ অব কমার্স এন্ড ইকোনোমিকস থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর ইন্সটিটিউট অব চাটার্ড একাউন্ট থেকে চাটার্ড একাউন্ট্যান্সি শেষ করেন।

চাটার্ড একাউন্ট্যান্সি শেষ করার পরই তিনি বিনিয়োগ করা শুরু করেন। ‘রিস্ক এন্ড রিওয়ার্ড’ কৌশল তাকে সাফল্য এনে দেয়। বর্তমানে ‘রেয়ার (RARE) এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির স্বত্বাধিকারী। এর বাইরে রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা অ্যাপটেক লিমিটেড ও হাঙ্গামা ডিজিটাল মিডিয়া এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের  চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফোবার্সের তালিকা অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১ জুন রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা ছিলেন ভারতের ৫৪তম শীর্ষ ধনী। সে সময় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৩০০ কোটি ডলার। বর্তমানে রাকেশ এর পোর্টফলিওতে  ৩১টি কোম্পানির শেয়ার রয়েছে যার মধ্যে  অ্যাপটেক লিমিটেড, ফেডারেল ব্যাংক লিমিটেড, ফর্টিস হেলথকেয়ার লিমিটেড, এসকোর্টস লিমিটেডের মত স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানও আছে।

তথ্যসূত্রঃ বণিক বার্তা, উইকিপিডিয়া

 

 

0