মহাদেবপুরের টুপি এখন মধ্যপ্রাচ্যে


সংসারের কাজকর্মের পর অবসর সময়ে টুপি তৈরি করে বাড়তি আয় করছেন নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের শতাধিক নারী। আগে যে পরিবারগুলো শুধু পুরুষ সদস্যদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল, সে পরিবারের মেয়েরা এখন টুপি সেলাইয়ের মাধ্যমে বাড়তি আয় করে সংসারে এনেছেন সচ্ছলতা। আর মহাজনরা এ টুপি দুবাই, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছেন।নওগাঁ জেলা সদর থেকে এ উপজেলার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। সেখান থেকেও ৫ কিলোমিটার দূরত্বে শিবরামপুর গ্রাম। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় বাড়ি বাড়ি চলছে টুপি তৈরির কাজ। এখানে প্রায় ১০০ পরিবারের নারী সদস্যরা টুপি তৈরির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

এখানকার টুপির কারিগর তানজিমা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, তিনি অবসর সময়ে টুপি তৈরি করে প্রতিমাসে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা আয় করছেন। শুধু তানজিমা নন, জোসনা, মারিয়া, মুক্তা, মাসুদাসহ এখানকার শতাধিক গৃহবধূ টুপি তৈরি করে প্রতিমাসে বাড়তি আয়ের মাধ্যমে সংসারের ব্যয় মেটাচ্ছেন। এলাকার অনেক ছাত্রীও এখন লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে অবসর সময়ে টুপি সেলাই করে লেখাপড়ার খরচ জোগাচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলার উত্তরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী দিলরুবা ও পারভীন সুলতানা জানায়, তাদের দরিদ্র পিতার পক্ষে জামা-কাপড়সহ লেখাপড়ার খরচ জোগানো সম্ভব হচ্ছিল না। প্রতিবেশীদের কাছে টুপি সেলাই করা শেখে এখন তারা বাড়তি আয় করে লেখাপড়ার খরচসহ নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে পারছে। টুপির কারিগর মুক্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, মহাজনরা তাদের সুতা সরবরাহ করেন। সেই সুতা দিয়ে টুপি তৈরি হলে মহাজনরা এসে নিয়ে যান। প্রতিটি টুপি সেলাইয়ের জন্য তাদের দেওয়া হয় ৩৫০ টাকা। একজন মহিলা সংসারের কাজকর্মের পর প্রতিমাসে দুই থেকে তিনটি টুপি সেলাই করতে পারেন। মহাজনরা এ টুপি দুবাই, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করেন।

তথ্যসূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

0