৫৯ বছরে বড় ক্ষতির মুখ দেখল বাটা


দেশের অন্যতম বহুল পরিচিত জুতার ব্র্যান্ডের অন্যতম বাটা জুতো কোম্পানি (বাংলাদেশ)। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে প্রধান বিক্রয় মৌসুমে জুতার দোকানগুলো বন্ধ থাকায় কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো লোকসানের শিকার হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া সত্ত্বেও, বাটা তার শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তানে শুরু হওয়া একটি বহুজাতিক কোম্পানী বাটা। ২০১৯ অর্থবছর থেকে ২০২০ অর্থবছরে বাটার বিক্রি প্রায় ৪১ শতাংশ কমেছে। যার মুল্যমান প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা।

২০১৯ সালেই বাটা ৪৯ কোটি টাকা লাভের মুখ দেখার পর ২০২০ সালে ১৩২ কোটি টাকা লোকসান গুণতে হয় বাটাকে।

বাটা কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “বাটা বাংলাদেশে ২০২০ সালে সামগ্রিক যে ব্যবসায় সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তা কোম্পানির উপার্জনকে হ্রাস করেছে। ২০২০ সালের কোভিড -১৯ মহামারির জন্য সারা দেশেই প্রধান উত্সবগুলোর সময় লকডাউন চলছিল। তাই ঈদ-উল-ফিতর, ঈদ-উল-আজহা, পূজা এবং পহেলা বৈশাখের সময় খুচরা ব্যবসায় লোকসানের কারণে উপার্জনগুলি মারাত্মক হ্রাস পায়। কারণ উত্সবকে কেন্দ্র করেই বাটার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বিক্রি হয়ে থাকে।”

কোভিড-১৯ এর কারণে ৭৭ শতাংশ ডিলার এবং পাইকারী ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়, যার ফলে তারা ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। সেজন্যে ২০২০ সালে বাটার ব্যবসায় বিক্রি ৪১ শতাংশ কমেছে বলে বিবৃতিতে প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া কোভিডের কারণে রফতানি বাজার বন্ধ থাকায় কোম্পানিটি আরো ক্ষতির সম্মুখীন হয় যার পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি টাকা।

তবে বিক্রি বাড়াতে বাটা গ্রাহকদের সবধরনের কেনাকাটার মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করছে। এছাড়া অনলাইনে তারা সপ্তাহের ৭দিনই ২৪ঘন্টা সার্ভিস দিচ্ছে এবং বিনা মূল্যে বাসায় ডেলিভারি নিশ্চিত করছে। তাছাড়া পুরোনো পন্য বিক্রির জন্যে তারা ছাড় দিচ্ছে। এতে তারা লাভবান না হলেও বিক্রি বাড়ছে এবং নতুন পন্য উৎপাদন অব্যাহত থাকছে। যদি সামনের মাসগুলোতে কোভিডের কোনও বিধিনিষেধ না থাকে, তবে তারা এই বছরের শেষের দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আশা প্রকাশ করছে।

তথ্যসূত্র – ডেইলি স্টার

0