হালকা প্রকৌশল দ্রুত এগিয়ে গেলেও সমস্যা পিছু ছাড়ছে না


হালকা প্রকৌশলের সাথে যুক্ত ব্যবসায়ীরা প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই বাজেটে হালকা প্রকৌশলে মেশিন যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারীদের ১০ বছরের কর অবকাশ, হালকা প্রকৌশল পণ্য নির্মাতাদের উপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) মওকুফ, এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশের প্রয়োজনীয়তার উপরে জোর দেয়া হয়েছে।

হালকা প্রকৌশল খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকশিত করার জন্যে অন্যান্য বাঁধা মোকাবেলা করা প্রয়োজন। তাই এই সাথে এই পেশার জড়িতরা সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে অনুরোধ করেছেন।

বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিইআইওএ) সভাপতি মোঃ আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, “আমরা এই শিল্পে ঘোষিত সহায়তার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। তবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে আরও অনেক সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।”

ড. এম কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর এপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের পরিচালক বলেন, “কর অবকাশ এবং ভ্যাট মওকুফ হালকা প্রকৌশল খাতকে এগিয়ে নেওয়ার দিকে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ খাতে সীমাহীন সম্ভাবনার জন্যে তা দেশে তৈরী পোষাক শিল্পকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

 

কর অবকাশ পাওয়ার জন্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মানদণ্ড হল,

  •       হালকা প্রকৌশলী পন্য প্রস্তুতকারকরা কেবলমাত্র তৈরি না হওয়া পণ্য বা যন্ত্রাংশ যদি কারখানাগুলোটে সরবরাহ করেন, তবেই তারা ১০ বছরের করের ছুটি উপভোগ করার জন্যে মনোনিত হবেন।
  •       বর্তমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা যারা বছরে ৫০ লাখ টাকার কম পণ্য বিক্রি করে থাকেন, অর্থাৎ টার্নঅভার রেট ৫০ লাখ টাকার কম, তাদের কর মওকুফ করে দেয়া হয়। তবে এখন থেকে ৭০ লাখ পর্যন্ত টার্নঅভার রেট হলে তা কর মওকুফযোগ্য। তবে এ শর্ত শুধুমাত্র নারী উদ্যোক্তাদের জন্যে প্রযোজ্য।
  •       যারা শুধুমাত্র স্থানীয়ভাবে যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, তারা ভ্যাট অবকাশ পাবেন। তবে ভ্যাট অবকাশ পাওয়ার জন্য অবশ্যই ভ্যাট নিবন্ধন করতে হবে এবং নিয়মিত সে বিবরণী জমা দিতে হবে।

 

 তাছাড়া বিভিন্ন বক্তব্যে বিশেষজ্ঞরা নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।  

মোঃ আবদুর রাজ্জাক বলেন, “আমদানিকৃত পণ্যের সাথে এখনো হালকা প্রকৌশলী খাতকে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। কারণ যন্ত্রপাতিতে আমদানী শুল্ক প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু সেই একই যন্ত্রপাতির অংশগুলো যখন স্থানীয় হালকা প্রকৌশলীরা বানাচ্ছেন, তখন কাঁচামাল কিনতে তাদের অনেক খরচ করতে হচ্ছে। কারণ প্রয়োজনীয় ধাতব কাঁচামাল কিনতে প্রায় ৪০% কর এবং শুল্ক দিতে হয়। তাই মার্কেট ধরতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হালকা প্রকৌশলীরা খুব কম লাভে তাদের পণ্য বিক্রি করে দিচ্ছেন।                                                                                                                                                                                                                                                                  বাজারে আমদানী হওয়া পণ্যের সাথে যদি সমপর্যায়ের প্রতিযোগিতা করতে হয় তাহলে ধাতব কাঁচামালে কর এবং শুল্ক ১% ধরতে হবে। নাহলে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজার দুইটাই আমাদের প্রতিকূলে থাকবে।”

আবদুল মাতলুব আহমদ জানান, “এই উল্লেখযোগ্য নীতির পরিবর্তন অবশ্যই মাঠ পর্যায়ে থেকে রূপদান করতে হবে। তা না হলে বাস্তবায়ন ব্যর্থ হবে।”

এছাড়া উচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণ এবং দক্ষ প্রকৌশলীদের আরও উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার জন্যে তারা সরকারকে অনুরোধ জানান। 

 

তথ্যসূত্র – ডেইলি স্টার

 

0