“রেনে বাংলাদেশ”- এর গল্প


আমি সানজানা জামান, আজকে আমাদের উদ্যোগ রেনে বাংলাদেশ এর গল্প আপনাদের জানাতে চাই।

২০১৫ সালে যখন আমি ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস এ মাস্টার্স করছিলাম, তখন অতীতের তিক্ত কর্পোরেট অভিজ্ঞতা ঝেড়ে নিজের কোন উদ্যোগ দাঁড় করানোর পরিকল্পনা করছিলাম। প্রমোশনাল গিফট আইটেম বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করব বলে আরও ৩জন পার্টনার সহ ঠিক করলাম। কিন্তু কাজে নেমে দেখা গেল, সেখানে নিজের কোম্পানির নাম বা কাজটা প্রতিষ্ঠিত করবার তেমন সুযোগ নেই। তখন নতুন আইডিয়া আসল যে, নিজেরদের নামে ব্যাগ এবং হাতের তৈরি বৈচিত্র্যময় পণ্য বানিয়ে একটা ব্র্যান্ড হিসেবে বিক্রি করা। কিন্তু শুরুর কিছুদিন পর, দুইজন পার্টনার বাক্তিগত কারনে পারায় দলছুট হলেন। রইলাম বাকি দুই; আমি আর নাইমুল।
কাজের শুরু থেকেই দেখা গেল আরও দুনিয়ার অনিশ্চয়তা। মনের মতন কাঁচামাল পাওয়া যায় না। অল্প পরিমান কেউ দিতে চায় না। অল্প পরিমানের অর্ডার কেউ নিতেও চায় না। যেখানে পাওয়া যায় সেখানে তাদের হাঁকা দাম আর আমাদের প্রয়োজনীয় মানের বিস্তর দুরত্ত।

এইসবের পাশাপাশি পরিবারের বাড়তি চাপ তো আছেই। এত টাকা খরচ করে পড়ানোর উদ্দেশই ছিল মেয়ে একটা ভাল চাকরি পাবে এবং করবে। নাইমুল এর উপর ও একমাত্র ছেলে হিসেবে অনেক দায়িত্ত। তার ও একটা ভাল বেতনের চাকরিই তো করার কথা।

এতসব চাপ মাথায় নিয়ে দিনের পর দিন আমরা ঘুরে বেরিয়েছি হাজারীবাগ, বংশাল, সদরঘাট, ইসলামপুর, কেরানীগঞ্জ, নরসিংদী আরও অনেক জায়গায়। শুরুর অফিসটা ১ কামরার হলেও স্বপ্নটা ছিল অনেক বড়। আশে পাশের মানুষের টিটকারি থেমে ছিলনা মোটেও। প্রায় সবার কথা একই রকম; নিজস্ব নামে, বাংলাদেশে তৈরি বলে, কথনই ভারত বা চায়না থেকে আমদানিকৃত ব্যাগের সাথে দামে, মানে এবং নকশায় কখনই পেরে উঠা সম্ভব না। আর এমন হাজারও সমস্যা নিয়ে ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু হয় ‘রেনে বাংলাদেশ’ এর।

শুরুটা অন্য মানুষের কারখানা থেকে পণ্য বানিয়ে অনলাইন এর মাধ্যমে বিক্রি থেকে শুরু হলেও এখন ৩ বছর পর এখন ডেমরায় নিজস্ব কারখানায় হয়, রেনে বাংলাদেশের পণ্য উৎপাদন।ঢাকায় বনানীতে রয়েছে একটি ডিসপ্লে সেন্টার। কয়েকটি অনলাইন বাজারও রেনের থেকে পণ্য নিয়ে বিক্রি করছে। বেশ কিছু দেশে নিজেদের কিছু পণ্য এখন রপ্তানিও করছে রেনে বাংলাদেশ।

রেনে বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু বাবসার মাধ্যমে অর্থ উপারজন করা নয়। বরং এর সাথে জড়িত সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী, যোগানদার সবার সম্মিলিত সমৃদ্ধি এবং দেশিয় উৎপাদন আরও সুসংহত করা।

0