করোনা মোকাবেলায় গঠিত পুন:অর্থায়ন তহবিলের ২৫ শতাংশ নারীদের


২০২০ সালে কোভিড মহামারীর কারণে কুটির, ক্ষুদ্র, মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। সেই ক্ষতি মোকাবেলায় সহায়তা করার জন্যে ২০২০ সালের এপ্রিলে সরকার তিন হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে। তা থেকে ২৫ শতাংশ ঋণ মহিলাদের দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্ট (এফআইডি)। গত বুধবার অর্থাৎ ৯ই জুন নতুন এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, নীতিমালা করার সময় নারীদের জন্য নির্ধারিত কোন অংশের উল্লেখ ছিল না। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এর অনুরোধে তহবিল গঠনের এক বছর পর এক-চতুর্থাংশ নারীদের জন্য বরাদ্দের নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 

গ্রামীণ অর্থনীতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের অংশগ্রহণের কথা বিবেচনা করে গত বছরের এপ্রিলে ৩ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল (স্কিম) গঠন করা হয়েছিল। কোভিড মোকাবেলায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চলমান রাখা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক (ইনক্লুসিভ) উন্নয়ন-ই ছিল এই ঋণ কার্যক্রমের প্রধান লক্ষ্য। প্রয়োজন হলে এই স্কিমের পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ ছিল। তবে এ তহবিলের ঋণ বিতরণে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঋণ বিতরণ করতে হয় বলে গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার পড়ছে ৯ শতাংশ। জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক মাত্র ১ শতাংশ সুদে ব্যাংকগুলোকে এই তহবিল দিচ্ছে। ব্যাংকগুলো আবার এই তহবিল ৩.৫ শতাংশ সুদে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেয়। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ৫.৫ শতাংশ সুদ যোগ করে গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণ আদায় করে থাকে।

তহবিলটির মেয়াদ ৩ বছর। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে এ তহবিল গঠন করা হয়।

এই ঋণ তহবিলে ক্ষুদ্র ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে একক গ্রাহক এই তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা এবং যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা ঋণ পাওয়া যাবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে, এককভাবে সর্বোচ্চ ১০ লাখ এবং যৌথ উদ্যোগে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মে পর্যন্ত নিম্ন আয়ের পেশাজীবীদের জন্য গঠিত ৩ হাজার কোটি টাকার এই তহবিলের ১ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে সুবিধাভোগী হয়েছেন ৩ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক।

 

তথ্যসূত্র – ডেইলি স্টার 

 

0