ই-কমার্স বিজনেস কোম্পানি মডেল


প্রতিটা বিজনেসের মূলে থাকে কিছু প্ল্যান বা পরিকল্পনা। ই-কমার্স  ব্যবসায়ে  একটি কোম্পানিকে তার কাংখিত লক্ষ্যে নিজের কোম্পানিকে নিয়ে যেতে হলে থাকতে হবে কিছু নির্দিষ্ট পরিকল্পনা । সেই পরিকল্পনাগুলো  নির্ধারণ করবে সেই কোম্পানি কতদূর পর্যন্ত যাবে এবং নিজস্ব একটি ব্র্যান্ড হিসেবে দেশ- বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে । প্রতিটি পদক্ষেপ এখানে জরুরি। এ ব্যবসায়ে বেশকিছু ডিপার্টমেন্ট রাখতে হবে যা এ ব্যবসায়ের উন্নতি এবং কাজগুলো ঠিকভাবে সম্পূর্ণ করে সমন্বয় সাধন করবে। প্রত্যেক ডিপার্টমেন্ট এখানে  ঠিকমত কাজ করলেই ব্যবসা অগ্রসর কিংবা প্রসার হবে।

কিছু ডিপার্টমেন্ট এর কথা উল্লেখ করা হল যা এ ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি

১।টেকনিক্যাল ডিপার্টমেন্টঃ

যাবতীয় প্রযুক্তিগত দিকগুলো এ ডিপার্টমেন্টের কাজ। সাইট ডেভেলপ করা, নতুন ফিচার এড করা, এপ সার্ভিস ভালো রাখা, সহজ করা মোবাইল ও ওয়েবের মাঝে সমন্বয় রাখা এবং ইলেক্ট্রনিক পেমেন্টগুলো ঠিকমত কাজ করছে নাকি তা দেখা। সাইটের কোন রকম টেকনিক্যাল সমস্যা হলে অল্প সময়ে তা ঠিক করা এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি করা সাইটকে এ ডিপার্টমেন্ট এর কাজ হবে।

২।পেমেন্ট ডিপার্টমেন্টঃ

প্রতিষ্ঠানে যাবতীয় অর্থনৈতিক বিষয় দেখার কাজ এ ডিপার্টমেন্টের। ক্রেতার পেমেন্ট সেলস ডিপার্টমেন্ট থেকে বুঝে নেওয়া।

প্রতিষ্ঠানের জন্যে কোথায় কি পরিমাণ ব্যয় করতে হবে মার্কেটিং সহ অন্য খাতে এবং কোম্পানির লোকদের বেতন সব এখানকার কাজ হবে।

৩।মার্কেটিং এন্ড সেলস ডিপার্টমেন্টঃ

ক্রেতাকে আকৃষ্ট করে সুন্দর আকর্ষণীয়ভাবে প্রোডাক্ট এর মার্কেটিং করতে হবে। নিয়মিত আপডেট থাকতে হবে মার্কেটিংয়ে।

প্রোডাক্ট নিয়ে প্রমোশন দিতে হবে বিভিন্ন সময়ে ,যাতে বিক্রি বাড়ে। সেল করার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ডেলিভারি টিমের থেকে পাওয়া অর্থ ও অনলাইনে পাওয়া অর্থ পেমেন্ট  ডিপার্টমেন্টকে দিতে হবে। এভাবে সমন্বয় রাখতে হবে।

৪।আইডিয়া ও পরিকল্পনা ডিপার্টমেন্টঃ

নিত্য নতুন আইডিয়া বের করার দায়িত্ব থাকবে এ ডিপার্টমেন্টের। কোম্পানির জন্যে সময় উপযুগী বিভিন্ন বিষয় ভাবতে হবে। কিভাবে সেল বাড়ানো যায়। কি ধরণের বিজ্ঞাপন দিতে হবে, কি ধরণের আইডিয়া হবে। কোন ধরণের প্রমোশন চালু করতে হবে কোন সময়। কোন প্রোডাক্ট কোন সময়ে তৈরি করলে বা সংগ্রহ করলে কোম্পানির উন্নতি হবে। যাবতীয় এ বিষয়গুলো নিয়ে আইডিয়া ও প্ল্যান করতে হবে।

৫।কর্পোরেট মিটিং এন্ড ব্র্যান্ডিং ডিপার্টমেন্টঃ

বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সাথে মিটিং ,সেমিনার  করতে হবে। কোন নতুন প্রোডাক্ট এর এক্সেস কোন প্রতিষ্ঠানে করানো যায় নাকি তা নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ব্র্যান্ডিং করবে কোম্পানির সাথে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় রাখবে। ব্যবসায়িক বিভিন্ন সুযোগ গ্রহণ করবে কোম্পানিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যে।

৬।মার্কেট এনালাইসিস ডিপার্টমেন্টঃ

বাজারের অবস্থা কেমন , মানুষ কি রকম প্রোডাক্ট এর প্রতি বেশি আগ্রহী সেইরকম এনালাইসিসগুলো করতে হবে। কি রকম প্রোডাক্ট এর প্রতি সামনের সময়ে আগ্রহ সৃষ্টি হবে তা বুঝতে হবে, জরিপ করতে হবে। কখন কি রকম প্রোডাক্ট মানুষ চায় তা এনালাইসিস করতে হবে।

৭।লিগ্যাল ডিপার্টমেন্টঃ

যাবতীয় আইনি বিষয়ক সমস্যা ও বিষয়াদি কোম্পানির দেখবে  ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

৮।অ্যাডভার্টাইজমেন্ট ডিপার্টমেন্টঃ

এ ডিপার্টমেন্ট এর কাজই হবে নতুন নতুন অ্যাডভার্টাইজমেন্ট তৈরি করা এবং মানুষকে আগ্রহী তোলার মত কিছু ভিন্নরকম বিজ্ঞাপন নির্মাণ করা। যাতে করে প্রোডাক্ট এর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ে এবং মানুষ কিনে। নতুনত্ব থাকবে বিজ্ঞাপনে প্রোডাক্ট নিয়ে বিক্রি ব্যবস্থাপনায়।

৯।প্রোডাক্ট ডিপার্টমেন্টঃ

এ ডিপার্টমেন্ট হবে কোম্পানির সবচেয়ে বড় ডিপার্টমেন্ট। প্রোডাক্ট এর যাবতীয় কাজ এরা করবে।

প্রোডাক্ট অর্ডার টিমঃ

ক্রেতার কাছ থেকে প্রোডাক্ট  এর অর্ডার নিবে।

প্রোডাক্ট সোর্সিং টিমঃ

প্রোডাক্ট কোথায় পাওয়া যায় তার সোর্স করবে এবং কোম্পানির জন্যে সংগ্রহ করবে।

প্রোডাক্ট রিসার্স ও ডেভেলপমেন্ট টিমঃ

প্রোডাক্ট এর গুণগত মান ঠিক রাখবে , তা নিয়ে রিসার্স করবে এবং নিজেদের তৈরি নিজস্ব কোন প্রোডাক্ট থাকলে তা তৈরি করবে ও উন্নত করবে।

প্রোডাক্ট ভ্যালু নির্ধারণ টিমঃ

এ টিমের কাজ হবে বাজার যাচাই করে প্রোডাক্ট এর ভ্যালু নির্ধারণ করা , যাতে করে সহনীয় এবং আকর্ষণীয় মূল্যে ক্রেতা প্রোডাক্ট পায়। সাথে নিজেদের লাভ কত থাকবে তাও ঠিক করা।

প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি এবং ভিডিওগ্রাফি টিমঃ

এ টিমের কাজ হবে বিভিন্ন প্রোডাক্ট এর প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি এবং ভিডিওগ্রাফি নিয়ে কাজ করা।

প্রোডাক্ট রিভিউ টিমঃ

প্রোডাক্ট বিষয়ক সুন্দর পরিপাটি আকর্ষণীয় ছবি সম্বলিত রিভিউ তৈরি করা, যাতে ক্রেতা প্রোডাক্ট রিভিউ পড়ে এর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে কিনে।

প্রোডাক্ট প্যাকেজিং টিমঃ

প্রোডাক্ট সুন্দরভাবে প্যাকেজ করাই হচ্ছে এই টিমের একমাত্র কাজ।

প্রোডাক্ট ডেলিভারি টিমঃ

এই টিমের সেলস ডিপার্টমেন্ট এর সাথে এদের সংশ্লিষ্টতা থাকবে। তাদের কাজ হবে প্রোডাক্ট ডেলিভারি করা ও পেমেন্ট সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টকে তা দেওয়া।

১০।কাস্টমার সার্ভিস ডিপার্টমেন্টঃ

কাস্টমার প্রোডাক্ট নিয়ে কোন সমস্যায় পরলে তার সমাধান দেয়ার দায়িত্ব এ টিমের। কাস্টমারের সাথে কথা বলা, তার সার্ভিস নিশ্চিত করা এদের কাজ।

১১। ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টঃ

যাবতীয় সব বিষয়গুলো সমন্বয় সাধন করে কোম্পানি পরিচালনা করা, বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া,কোম্পানিকে ভালো অবস্থায় নিয়ে যাওয়া এই ডিপার্টমেন্ট এর কাজ।

বিঃদ্রঃ সবগুলো ডিপার্টমেন্ট নিয়ে কাজ না করে এই ব্যবসা নামা এত সহজ নয় ।

উৎস – https://www.facebook.com/Contentever/

0