নিজের হবে বায়িং হাউস


আমাদের দেশের তৈরি পোশাক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। এ সুযোগে বিদেশি ক্রেতার কাছে দেশের তৈরি পোশাক বিক্রির জন্য অনেকেই বায়িং হাউস দিচ্ছেন। বর্তমানে দেশে বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত বায়িং হাউসের সংখ্যা ৯১১টি এবং বিজিবিএ’র ১৭৯টি। এ দুই সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন বায়িং হাউস রয়েছে প্রায় ৮ শত। অর্থাত্ সব মিলিয়ে দেশে বায়িং হাউসের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। চাইলে আপনিও পুঁজি বিনিয়োগ করে শুরু করতে পারেন বায়িং হাউসের ব্যবসা। মৌনতা বায়িং হাউসের নির্বাহী কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম বলেন, দেশে আগামীতে বায়িং হাউসের ক্ষেত্রে একটি শিল্প বিল্পব ঘটবে বলে আশা করা যায়। কেননা তরুণদের এ পেশার প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে।

বায়িং হাউস কী:
বর্তমানে দেশে পোশাক তৈরি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার। বিদেশ থেকে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত সরাসরি কোনো তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে না। তারা পণ্য কিনতে তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেয়। দুই পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে তাদের মধ্যে চুুক্তি হয়। চুক্তি মোতাবেক দেশীয় প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ধরনের পণ্য সরবরাহ করার যাবতীয় দায়িত্ব পালন করে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বায়িং হাউস বলে।

জানতে হবে নিয়ম:
বায়িং হাউস দিতে হলে এ ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়গুলো ভালোভাবে জানতে হবে। লাগবে এ ব্যবসার বৈধ সনদ। এ জন্য প্রথমেই ট্রেড লাইসেন্স করে নিতে হবে। এরপর বিজিএমইএ-এর সদস্যপদ পেতে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র বিজিএমইএ থেকে বিনামূল্যে সংগ্রহ করা যাবে। আবেদন করার পর তদন্ত শেষে সদস্য হিসেবে একটি সনদপত্র দেবে বিজিএমইএ। আবেদন পত্রের সাথে ট্রেড লাইসেন্সের কপি, মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেল বা অংশীদারি দলিলের কপি, পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি, ভাড়ার চুক্তিপত্র বা ক্রয় দলিল, ট্যাক্স সার্টিফিকেটের কপি, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র (যদি থাকে) এবং বিনিয়োগ বোর্ডের ওয়ার্ক পারমিট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্যাডে স্বাক্ষরসহ জমা দিতে হবে। বিজিএমইএ কর্তৃক বায়িং হাউসের জন্য নিবন্ধন ফি ১৫ হাজার টাকা। সঙ্গে এক বছরের সদস্য ফি আরও ৮ হাজার টাকা। বিজিএমইএ-এর নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব নাম্বারে এ টাকা জমা দিতে হবে। তবে সদস্যপদ নবায়নের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে সহযোগী সদস্য হিসেবে এক বছরের জন্য সনদ দেওয়া হয়। ফলে এক বছর পর সনদ নবায়ন করে নিতে হবে। আপনার বায়িং হাউস বিজিএমইএ-এর নিবন্ধনকৃত না হলে ব্যবসা করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে। কারণ ক্রেতা চুক্তি করার আগে আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে বিজিএমইএ-এর দ্বারস্থ হবে। সদস্য না হলে বিজিএমইএ আপনার সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারবে না। তখন আপনি কাজটি না-ও পেতে পারেন। কারণ বিদেশি ক্রেতারা ব্যবসায়িক ঝুঁকির কারণে বিজিএমইএ-এর সদস্য নয়, এমন বায়িং হাউসগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতে চায় না।

আরও যা প্রয়োজন:
বায়িং হাউসের জন্য অফিস নেওয়ার পর সাজিয়ে নিন। তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী লোকবল নিয়োগ দিন। বায়িং হাউসের আসল কাজ হল গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করা। এ কারণে অফিসে টেলিফোন, ফ্যাক্স, ইন্টারনেট সংযোগসহ কম্পিউটার লাগবে। যে কোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীরা এ পেশায় আসতে পারেন। এ ব্যবসায় ভালো করতে চাইলে ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে। দেশের তৈরি পোশাক সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে। কারণ বিদেশি বায়ারদের সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং প্রোডাক্ট সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। একই সঙ্গে কম্পিউটার জানাটাও আবশ্যক। কারণ বায়ারদের সঙ্গে ই-মেইলের মাধ্যমেই যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। আনাম বায়িং হাউসের নিবার্হী পরিচালক সাদিক হোসাইন বলেন, এই ব্যবসাটা মূলত যোগাযোগ দক্ষতার ওপরই নির্ভর করে। এর বাইরে পণ্যের গুণগত মান ঠিক রেখে গ্রাহককে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে কি না পরবর্তী সময়ে ব্যবসার ক্ষেত্রে এ বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

(অনলাইন থেকে সংগৃহিত)

0